সিলেটে খুন ছিনতাই বাড়ছে
নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়ে মেজর টিলার বাসায় ফিরছিলেন ব্যবসায়ী আজমান আহমদ। টিলাগড়ে সিলেট সরকারি কলেজের সামনে তার সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে ৫-৬ ছিনতাইকারী অস্ত্র ঠেকিয়ে তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনা গত ৪ জুলাই দুপুরের। নগরীতে অস্ত্র ব্যবহার করে এ রকম অপরাধ ঘটছে অহরহ। এক-তৃতীয়াংশ খুনের ঘটনায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনাতেও অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। অবৈধ অস্ত্রের এমন ব্যবহারে নগরবাসীর মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত ১৮ জুলাই নগরীর বরইকান্দিতে মুক্তিপণের টাকা না দেওয়ায় খুন হন রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন জামরুল। এ ঘটনায় তার ব্যবসায়িক পার্টনার শিবি্বর আহমদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই দিনে রাত সাড়ে ৯টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জৈন উদ্দিনকে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পুলিশ রাজন নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে।
এছাড়াও গত ৩ জুলাই দুপুরে কোর্ট পয়েন্ট এলাকা থেকে এক সাবেক সরকারি কর্মকর্তাকে অপহরণ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ১৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। একই দিনে
নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকায় অটোরিকশা চালক লুৎফুর রহমানকে অস্ত্র ঠেকিয়ে তার সিএনজি অটোরিকশাটি (সিলেট-থ-১২-৯০৩৭) ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত অটোরিকশা উদ্ধার বা এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
গত ১২ জুলাই দিনদুপুরে টিলাগড় এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ হারান ছাত্রলীগ কর্মী পলাশ। এর আগে গত ১০ জুন প্রকাশ্য রাস্তায় সিবিএ নেতা আবু তাহেরকে খুন করা হয়। এসব ঘটনাসহ সাল্ফপ্রতিক এ রকম আরও বেশ কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে।
গত ১৪ জুলাই নগরীর শাহী ঈদগাহের এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা।
খুন-ছিনতাই বাড়লেও র্যাব-পুলিশের অভিযান কাজে আসছে না। থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। রাস্তায় পুলিশের টহল কমে গেছে। ছিনতাই মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের অনীহার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
পুলিশ কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, নগরীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। এসব সন্ত্রাসী অস্ত্র ঠেকিয়ে খুন, ছিনতাই করছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের কোনো তৎপরতা না থাকায় এর অপব্যবহার দিন দিন বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন।
এ ব্যাপারে নগরীর আম্বরখানার ইমরান আহমদ জানান, অস্ত্রের ব্যবহার, খুন ও ছিনতাইয়ের প্রধান কারণ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা। পুলিশ তৎপর হলেই এ ধরনের অপরাধ কমে যায়। তাছাড়া এদের গ্রেফতারে সমন্বিত কোনো উদ্যোগ নেই। আগে রাস্তায় টহল পুলিশ দেখা গেলেও এখন সেই তৎপরতায় ভাটা পড়েছে। তাছাড়া অস্ত্র উদ্ধারে বড় কোনো অভিযান না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার ডা. আফতাব উদ্দিন আহমদ জানান, অপরাধী গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে।

