ভবনের দখল নিয়ে চবিতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
চট্টগ্রামের লালখান বাজারের চানমারী রোডের ২২ কাঠার প্লটে নির্মিত একটি দোতলা ভবন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভাড়া নিয়েছিল ২০০২ সালে। কর্তৃপক্ষ ভবনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাব হিসেবে ব্যবহার করছিল। ২০০৮ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সম্প্রতি জমির মালিক সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলে বাধা দেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও জমির মালিক থানায় পাল্টাপাল্টি জিডি করেছে।
অন্যদিকে পুলিশ দিয়ে মালিকপক্ষের সাইনবোর্ড সরানোর বিপরীতে মালিকপক্ষ র্যাব এনে ভয়ভীতি দেখিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষকে।
প্লটের মালিক প্রয়াত আবু জাফর চৌধুরী ২০০২ সালে ভবন ভাড়া দিয়েছিলেন চবিকে। কর্তৃপক্ষ এখানে শিক্ষক ক্লাবের শহরের কেন্দ্র স্থাপন করেছে। একাধিকবার ভাড়ার মেয়াদ বৃদ্ধির পর এ বছরের
৩১ জানুয়ারি মেয়াদ শেষ হয় সর্বশেষ চুক্তির। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আবু জাফর মারা গেলে তার ছোট ছেলে ডা. আবু মুরাদ চৌধুরী একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে জমির খালি অংশে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু চবি কর্তৃপক্ষ স্থাপনা নির্মাণ করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন আবু মুরাদ।
ডা. আবু মুরাদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, এক মাসের নোটিশে ভাড়াটেকে তুলে দেওয়ার শর্ত ছিল লিখিত চুক্তিতে। আমরা একাধিকবার তাদের চিঠি দিয়েছি জমি মুক্ত করে দিতে। ফেব্রুয়ারিতে জমি দখল নিতে চাইলে পুলিশ ও মাস্তান এনে আমাদের বের করে দেয়। ছয় মাস ধরে অনুরোধ করেও তাদের সরাতে পারছি না।
গত রোববার রাত ৮টায় র্যাব নিয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন মুরাদ ও সংশ্লিষ্টরা। নিরাপত্তার জন্যই র্যাব নিয়েছেন বলে অজুহাত দেখিয়েছেন তিনি। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষ একে বলছে র্যাবের অতিরিক্ত ‘খবরদারি’। এ সময় ক্লাবে উপস্থিত শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে র্যাব সদস্যরা অশালীন আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কাজে র্যাব যেতে পারে কি-না এমন প্রশ্নের তাদের। এর আগে নিরাপত্তা চেয়ে খুলশী থানায় দুটি এবং র্যাব-৭-এ একটি জিডিও করেন আবু মুরাদ। মালিকপক্ষের ওই জিডির বিপরীতে চবি কর্তৃপক্ষ জিডি করেছে থানায়। এর আগে গত মাসে জমিতে লাগানো মালিকপক্ষের সাইনবোর্ড পুলিশ এনে সরিয়ে ফেলে চবি কর্তৃপক্ষ।
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চবি অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহেদ বীন ছাদিক সমকালকে বলেন, আমরা তাদের কাছে সময় চেয়েছি। এভাবে হুট করে ক্লাব তুলে নেওয়া যায় না। তাছাড়া এ সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে।

