বিশ্বকাপে সুশ্রী একাদশ
হ ফ্যাবিও ক্যানাভারো (ইতালি) : বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলারদের একজন ছিলেন ৩৬ বছর বয়সী ফ্যাবিও ক্যানাভারো। ফুটবল ইতিহাসে একমাত্র ডিফেন্ডার, যিনি ফিফা ফুটবলার অব দ্য ইয়ারের পুরস্কার জিতেছেন। এছাড়া বেশি বয়সে ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার জেতা ফুটবলারও তিনি। বয়স বেশি হলেও এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুটবলার ছিলেন তিনি।
হ ফার্নান্দো টোরেস (স্পেন) : হাঁটুর ইনজুরি থেকে সদ্য সেরে ওঠা ফার্নান্দো তোরেস মাত্রই ফিরে এলেন। এসেই দক্ষিণ আফ্রিকা পাড়ি জমালেন বিশ্বকাপে নিজ দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য; কিন্তু লিভারপুলের এ স্ট্রাইকার পুরো টুর্নামেন্টে ডেভিড ভিয়ার ছায়ায় ধূসর হয়েছিলেন টোরেস। তারপরও বিশ্বকাপের আকর্ষণীয় ফুটবলারের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন স্প্যানিশ এ স্ট্রাইকার।
হ ডেভিড ভিয়া (স্পেন) : বিশ্বকাপ শুরু হতে না হতেই যোগ দিয়েছেন বার্সেলোনায়। বিশ্বকাপ জয়ের পথে স্প্যানিশদের স্বপ্নের সৌধ নির্মাণ করেছেন একের পর এক। ৫ গোল করে বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন তিনি; কিন্তু জিতলেন না গোল্ডেন বুটের পুরস্কার। ফিফা অলস্টার একাদশে ভিয়া ভোট পেয়েছেন ৬১.৩৩ ভাগ।
হ ল্যান্ডন ডনোভান (যুক্তরাষ্ট্র) : লা গ্যালাক্সির ফরোয়ার্ড ডনোভান এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে গোল করেই ২-২ গোলে ড্র করে দলকে পয়েন্ট এনে দেন। ১৯৩০ সালের পর এই প্রথম গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলো আমেরিকানরা। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোলও করেছেন তিনি। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের গোলে ঘানার কাছে হারতে হয় তাদের।
হ থিয়েরি অঁরি (ফ্রান্স) : এবারের বিশ্বকাপটা দুঃস্বপ্নই হয়ে থাকবে থিয়েরি অঁরির কাছে। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ছিল ৩২ বছর বয়সী অঁরির; কিন্তু সাইডলাইনে বসেই দেখতে হয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে কীভাবে বিদায় নিল ফ্রান্স। বিশ্বকাপে দলের বাজে পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলে আর না খেলারই ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন অঁরি। বার্সেলোনা ছেড়ে যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লীগ সকার টিম (এমএলএস) নিউইয়র্কের রেড বুলসে।
হ এডিসন কাভানি (উরুগুয়ে) : ২০০৮ থেকে কাভানি খেলে আসছেন উরুগুয়ে জাতীয় দলের হয়ে। অভিষেকেই কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোল করেন তিনি। তার গোলেই ২-২ এ সমতা আনে উরুগুয়ে। বিশ্বকাপে উরুগুয়েকে শেষ চার পর্যন্ত নিয়ে যেতে অবদান রেখেছেন বেশ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে একটি গোলও করেছেন তিনি। ইতালিয়ান সিরিএ ক্লাব নেপোলির সঙ্গে ৫ বছরের চুক্তিও করে ফেলেছেন কাভানি।
হ কাকা (ব্রাজিল) : রিয়াল মাদ্রিদে ইনজুরির এক মৌসুম শেষে বিশ্বকাপে এলেন খেলতে; কিন্তু কাকার পায়ের ক্ষুরদার খেলা দেখতে পায়নি বিশ্ব। একেবারেই ফ্লপ বলা যায় তাকে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ম্যাচে আবদেল কাদের কাইতাকে কনুই দিয়ে গুঁতো দেওয়ার অপরাধে লাল কার্ড দেখে বহিষ্কার হওয়া ছাড়াও এক ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকেন তিনি। হল্যান্ডের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সময় একটি দারুণ সুযোগ মিস করেন কাকা।
হ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল) : বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার পর্তুগিজ উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু বিশ্বকাপে নিজের এ মূল্যের কিছুই দেখাতে পারেননি তিনি। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করেন রোনালদো; কিন্তু গোলের দেখা পাননি তিনি। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৭-০ গোলে জয়ের পথে একটি গোল করে পর্তুগালের হয়ে দীর্ঘ গোলখরা কাটান তিনি। স্পেনের বিপক্ষে বেশ কয়েকটি ফ্রি কিক নেন। কিন্তু সবই বার উঁচিয়ে চলে যায় বাইরে।
হ দিদিয়ের দ্রগবা (আইভরি কোস্ট) : ৩২ বছর বয়সী আইভরিয়ান তারকা ফুটবলার দিদিয়ের দ্রগবা শুধু আইভরি কোস্টের নয়, স্বপ্ন কাঁধে নিয়েছিলেন পুরো আফ্রিকার। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে হাতের কনুই ভেঙে ফেলেন তিনি। এ কারণে ভালোভাবে খেলতেই পারেননি তিনি। পর্তুগালের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন শেষদিকে। ব্রাজিল আর উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন। জয় পেয়েছেন মাত্র একটি। বিশ্বকাপে আফ্রিকার হয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম এবং একমাত্র গোলটিও করলেন দ্রগবা।
হ কেইসুকে হোন্ডা (জাপান) : বিশ্বকাপে কেইসুকে হোন্ডার পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে সবার। টেকনিক্যালি তার মেধা দেখে অবাক হয়েছেন সবাই। সেট পিচ থেকে সুবিধা পুরোপুরি আদায় করে নেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে তার। দ্বিতীয় রাউন্ড পার হতে না পারলেও আগামী দিনে ফুটবল মাতানোর বড় তারকা যে হচ্ছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
হ ডেভিড জেমস (ইংল্যান্ড) : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বিশ্বকাপে খেলতে পারলেন ইংলিশ গোলরক্ষক ডেভিড জেমস। এবারের বিশ্বকাপে ছিলেন সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলার। এছাড়া সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়ার রেকর্ড এখন তার দখলে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ১৮ জুন যখন তিনি মাঠে নামেন তখন তার বয়স ৩৯ বছর ৩২১ দিন।

