পন্টিং লর্ডস-লজ্জার শেষ কোথায়?
সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে ধরা হয় স্টিভ ওয়াহকে। আর সাফল্যের দিক থেকে স্টিভ ওয়াহকেও পেছনে ফেলেছেন বর্তমান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক রিকি পন্টিং। স্টিভ তার ক্যারিয়ারে কখনোই ভারতের মাটি থেকে টেস্ট সিরিজ জিততে পারেননি। কিংবদন্তির অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহর সারাজীবনের আরেক দুঃখ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ক্যারিয়ারে কখনোই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের স্বাদ পাননি তিনি। কিন্তু স্টিভের এ অসম্পূর্ণ মিশনকে সম্পূর্ণ করেন পন্টিং। ভারতের মাটি থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শিরোপা_ সবকিছুই দেশকে এনে দেন পন্টিং। এতকিছুর পরও পন্টিংয়ের ক্যারিয়ার সম্পূর্ণ নয়। ক্রিকেটের মক্কা বিবেচিত লর্ডস রহস্য হয়েই থাকল পন্টিংয়ের জন্য। কত নামহীন অখ্যাত ক্রিকেটারও জায়গা করে নিয়েছেন লর্ডসের অনার বোর্ডে। বিশ্ব ক্রিকেটের প্রায় সবকিছু নিজের করে নেওয়ার পরও লর্ডসের অনার বোর্ডে নাম নেই পন্টিংয়ের। সেঞ্চুরি তো দূরের ব্যাপার, আজ অবধি লর্ডসের মাটিতে কোনো হাফ সেঞ্চুরিও পাননি তিনি। লর্ডসে চার-চারটি টেস্ট খেলেছেন তিনি। গড় মোটে ১৮.১৬। সর্বোচ্চ রান মোটে ৪২।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সবে শেষ হওয়া লর্ডস টেস্টে দুই ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে যথাক্রমে ২৬ ও ০ রান। বোদ্ধারা মনে করছেন, লর্ডসে এটিই পন্টিংয়ের শেষবারের মতো ব্যাট করা। যদিও ২০১৩ সালের অ্যাশেজে ইংল্যান্ড সফরের কথা অস্ট্রেলিয়ার; কিন্তু ওই সময় পর্যন্ত পঁয়ত্রিশ পেরোনো পন্টিংয়ের পক্ষে দলে থাকা সম্ভব কি-না, উঠে আসছে সে প্রশ্নটিও। যদিও গত বছর লর্ডস বিপর্যয়ের পর পন্টিং জোর গলায় বলেছিলেন, তিনি চার বছর পর আবার লর্ডসে ফিরবেন। কিন্তু সাম্প্রতিক যে ফর্ম তাতে করে পন্টিংয়ের পক্ষে আরও তিন বছর ভালোভাবে খেলে যাওয়া এক রকম অসম্ভব ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছে। গত এক বছরে কেবল একটিমাত্র সেঞ্চুরিই এসেছে তার ব্যাট থেকে। বয়সের কারণে তার রিফ্লেক্স কমে যাচ্ছে_ উঠছে এমন অভিযোগও; কিন্তু এসব অভিযোগকে পাত্তাই দিচ্ছেন না এই অসি অধিনায়ক।
সম্প্রতি ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘এটি ঠিক যে, গত কিছুদিন ধরে সেভাবে রান পাচ্ছি না। তবে এ সময়ে খুব বাজেভাবে আউট হচ্ছি। সম্প্রতি দু’বার রানআউট হয়েছি। কমপক্ষে আরও দু’বার সোজা ব্যাটে খেলার পরও বল প্যাডে লেগেছে। আমি লেগবিফোর হয়ে গেছি। বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে রিফ্লেক্স কমে গেছে এটি ঠিক নয়।’
লর্ডস ট্র্যাজেডি নিয়ে আক্ষেপটা অবশ্য ভালোমতোই আছে পন্টিংয়ের। বলেছেন, ‘লর্ডসের অনার বোর্ডে নাম নেই এটি আমি সারাক্ষণই অনুভব করি। এবার সুযোগও ছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারলাম না।’ তার দল লর্ডসে ১৫০ রানে হারিয়েছে। দল জিতলেও নিজে জিততে পারেননি। বয়সের কারণে এ হার হয়েছে এটি মানতে নারাজ তিনি। পন্টিংয়ের ভাষ্য, ‘বয়স আমার কোনোকিছুই কেড়ে নিতে পারেনি। আমার সবকিছু আগের মতোই আছে।’

