দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তিন মাসেও
সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের পরিচালক আলমগীর খান ও প্রসিকিউটিং অফিসার (প্রসিকিউটর) পারভীন সুলতানার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিবিধি (শৃঙ্খলা ও আপিল) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ তিন মাসেও বাস্তবায়ন হয়নি। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা লঙ্ঘন ও হাইকোর্টের রুলের জবাব দিতে কালক্ষেপণের অভিযোগে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গত ১১ এপ্রিল নৌপরিবহন
মন্ত্রণালয়ে এ সুপারিশ করেছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সুবিধাভোগী এ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র মতে, অধিদফতরের ‘প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক’ পদে নিয়োগ বিষয়ে হাইকোর্টে দায়েরকৃত আলাদা দুটি রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত বছর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান ও রুলনিশি জারি করেছিলেন। নৌ মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানতে চেয়ে ওই বছরের ১৫ জুলাই চিঠি পাঠায়। কিন্তু অধিদফতরের পরিচালক আলমগীর খান ও প্রসিকিউটিং অফিসার পারভীন সুলতানা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ কিংবা পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে কিছুই জানাননি।
এদিকে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার এ বিষয়টি চাপা পড়ে যাওয়ায় মন্ত্রণালয় গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডবি্লউটিসি) থেকে দুই কর্মকর্তাকে প্রেষণে অধিদফতরের ‘প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক’ পদে নিয়োগ দেয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘনের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে মন্ত্রণালয় বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে এবং ওই দুই কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করতে বাধ্য হয়।
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মান্নান হাওলাদার সমকালকে বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্ট পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তবে তদন্ত রিপোর্টের সুপারিশ তিন মাসেও বাস্তবায়ন না করা প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

