দলবদলের যত নাটক
দলবদল নিয়ে এখন কিছুটা উত্তাল বিশ্ব ফুটবল। দলকে শক্তিশালী করতে নামি খেলোয়াড়দের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রায় সব দল। এরই মাঝে দলবদলে ব্যর্থ কিছু খেলোয়াড়ের কথা এখানে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে সবই পুরনো ঘটনা। যারা দলবদল করতে চেয়েছিলেন, সবকিছু চূড়ান্তও হয়েছিল, তারপর তারা দলবদল করতে পারেননি। এমন কিছু ঘটনা এখানে তুলে ধরা হলো_
(প্যারিস সেন্ট জার্মেই-রিয়াল মাদ্রিদ, ২০০৩) ইউরোপিয়ান ফুটবলের স্বাদ নিতে ২০০১ সালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে যোগ দেন। দুই বছর পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার সব আয়োজন শেষ হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে ২০০৫ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও তাকে নেয়নি রিয়াল। পরে বার্সেলোনায় যোগ দেন এই ব্রাজিলিয়ান এবং বার্সেলোনার হয়ে সব ট্রফিই জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
প্রেবেন এলকায়ের (লোকেরেন-আর্সেনাল, ১৯৮৪) ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ডেনমার্কের অন্যতম তারকা এই এলকায়ের। বিশ্বকাপের দুই বছর আগে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমানোর কথা ছিল তার। কিন্তু হঠাৎ করে আর্সেনাল তাকে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তারা ৩১ বছর বয়সী পল ম্যারিনেরকে দলে ভেড়ায়। অন্যদিকে এলকায়ের ইতালি লীগে ভেরোনাতে যোগ দেন এবং ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখান।
(স্পোর্টিং লিসবন-পারমা, ১৯৯৫) মাত্র ২২ বছর বয়সে এই পুর্তগিজ তারকা ইতালি লীগে পাড়ি জমানোর সব বন্দোবস্ত করেছিলেন। কিন্তু নিজেরই একটা ভুলের কারণে তার ইতালিতে আসা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি পারমা ও জুভেন্টাসে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। এমন কর্মের জন্য তাকে ইতালি লীগে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে ফিগো ঠিকানা হিসেবে বার্সেলোনাকে বেছে নেন।
(সাউদাম্পটন-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ১৯৯২ ও ১৯৯৬) ১৯৯২ সালে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের পরিবর্তে যদি অ্যালান শিয়েরার রেড ডেভিলসে নাম লেখাতেন তাহলে প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাস অন্যরকম হতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্য শিয়েরারের, দু’বার সম্ভাবনা তৈরি হয়ে তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। শেষবার তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। ফলে ১৯৯৬ সালে রেকর্ড পরিমাণ অর্থে শিয়েরার তার ছোট বয়সের ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডে যোগ দেন।
(স্পোর্টিং লিসবন টু জুভেন্টাস, ২০০৩) : তারকা হননি। তবে তারকা হবেন এমন আভাস ছড়াতে শুরু করেছেন। সে সময় অর্থাৎ ২০০৩ সালে এই পর্তুগিজ তারকাকে স্পোর্টিং লিসবন থেকে ইতালি ক্লাব জুভেন্টাসে আনার পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু চিলি স্ট্রাইকার মার্সেলো সালাসের কারণে তা সম্ভব হয়নি। জুভেন্টাস ছাড়ার কথা ছিল সালাসের। কিন্তু সালাস ছাড়েননি, ফলে রোনালদোরও জুভেন্টাসে আসা হয়নি। তবে দল ঠিকই তিনি পরিবর্তন করেছিলেন। গিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। তারপরও তো রোনালদো ইতিহাস।
(আর্জেন্টিনস জুনিয়র্স-শেফিল্ড ইউনাইটেড, ১৯৭৮) যেনতেন পরিমাণ নয়, ৬ লাখ পাউন্ডে আর্জেন্টিনার এই তারকার শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। ১৯৭৮ সালে এই অর্থের পরিমাণটা অকল্পনীয় ব্যাপার ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেফিল্ড ইউনাইটেডে যাওয়া হয়নি। কারণ এই পরিমাণ অর্থ শেষ পর্যন্ত শেফিল্ড ইউনাইটেড জোগাড় করতে পারেনি।
(স্যান্তোস-রিয়াল মাদ্রিদ, ১৯৬০) ক্যারিয়ারে কখনোই ইউরোপের কোনো ক্লাবে খেলা হয়নি ব্রাজিলের এ তারকার। তবে দু’বার সে সুযোগ এসেছিল। একবার রিয়াল মাদ্রিদে এবং অন্যবার জুভেন্টাসে। কিন্তু প্রতিবারই আলোচনাতেই তা শেষ হয়েছে। আলোচনা বাস্তবের মুখ দেখেনি। কেননা সে সময় ব্রাজিল সরকার পেলেকে দেশের বাইরে কোথাও খেলতে দিতে চায়নি। সরকারের ভাষায় পেলে ছিলেন ‘জাতীয় সম্পদ’। আর এই ‘জাতীয় সম্পদ’ দেশের বাইরে পাঠানোকে যুক্তিযুক্ত মনে করেনি ব্রাজিল সরকার। অবশ্য এক সময় নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে খেলেছেন। কিন্তু তখন পেলের বয়স হয়েছিল ৩৫ বছর।
আলফ্রেডো ডি স্টেফানো (মিলিওনারিওস-বার্সেলোনা, ১৯৫৩) আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর ক্লাব পরিবর্তন করার বিষয়টি আরও নাটকীয়। তাছাড়া বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে শত্রুতার একটা কারণ হয়ে আছেন এই ডি স্টেফানো। ১৯৫৩ সালে তিনি স্প্যানিশ লীগে খেলতে স্পেনে এসেছিলেন।

