ডিসিসির একশ’ গাড়ি সিএনজিতে রূপান্তরে বড় বাধা চালকরা
ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গাড়িচালকদের আপত্তি ও বিরোধিতার কারণে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে পাওয়া ১শ’ অত্যাধুনিক কনটেইনার ট্রাক সিএনজিতে রূপান্তর থমকে আছে। নগরীর বর্জ্য পরিবহনের জন্য জাইকা ট্রাকগুলো দিয়েছে। জাইকার শর্ত অনুযায়ী ডিজেলচালিত ট্রাকগুলো পরিবেশবান্ধব করতে সিএনজিতে রূপান্তর করতে হবে। তবে কর্মচারী ও গাড়িচালকদের যুক্তি; সিএনজিতে রূপান্তর করা হলে গাড়িগুলো চালাতে অসুবিধা হবে। গ্যাস ভরতে অনেক সময় লেগে যাবে। খরচ বেড়ে যাবে। তবে ডিসিসির বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, বিরোধিতার নেপথ্য কারণ সিএনজিতে রূপান্তর করা হলে গাড়িগুলো থেকে জ্বালানি তেল চুরি করা যাবে না।
ডিসিসির পরিবহন চালক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আক্তার দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত একটি আবেদন সংবাদপত্রসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়েছে। এতে সিএনজিতে রূপান্তরের বিরুদ্ধে যে যুক্তি দেখিয়েছেন সেগুলো হচ্ছে_ সিএনজিতে রূপান্তরকরণে গাড়ির আয়ু গড়ে শতকরা ২০ ভাগ কমে যায়। ইঞ্জিন মেরামত ব্যয় বেড়ে যায় ২৫ ভাগ। অল্প সময়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। অল্পতেই ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরিয়ে আনতে সময় লাগে। গ্যাস ভরতেও অনেক সময় লেগে যায়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য : ডিসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা সমকালকে বলেন, জাইকার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ডিজেলচালিত গাড়িগুলোকে সিএনজিতে রূপান্তরের শর্ত রয়েছে। এই শর্ত লঙ্ঘন করলে জাপান সরকার মানবে কি-না এটাই এখন প্রধান বিষয়।
প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী ড. তারেক বিন ইউসুফ সমকালকে বলেন, আড়াই বছর আগে করা চুক্তিতে গাড়িগুলোকে সিএনজিতে রূপান্তরের শর্ত রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৪৫টি গাড়ি সিএনজিতে রূপান্তরের ব্যবস্থা নেওয়ায় আপত্তি উঠেছে। এছাড়া যখন চুক্তি করা হয় তখন গ্যাস সংকট ছিল না। এখন তীব্র গ্যাস সংকটের বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। তিনি বলেন, এ নিয়ে জাইকার সঙ্গে আলোচনা চলছে। জাইকার অনুমোদন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

